জাকিরের ওপর হামলা নিয়ে যা বললেন মমতা

95

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শ্রম দফতরের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনকে খুন করতে বড় ধরনের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে সরাসরি জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার এসএসকেএম হাসপাতালে শ্রম দফতরের প্রতিমন্ত্রী জাকিরকে দেখতে এসে মমতা বলেন, ‘পুরো ব্যাপারটা খুবই ভয়াবহ। কেউ ট্রেন ধরতে যাচ্ছে। তিনি কোন প্ল্যাটফর্মে যাবে, কখন ট্রেন ধরবে, তার সব খবর আগাম ছিল দুষ্কৃতীদের কাছে!’

তিনি আরো বরেন, ‘যারা জাকিরের সাথে ছিলেন তারা জানিয়েছেন, রিমোট কন্ট্রোলে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। জাকিরের সাথে তার ভাগ্নে ছিলেন। তিনি আমায় একই কথা বলেছেন। সেটা সত্যি কিনা আমি জানি না। বিষয়টা নিয়ে তদন্ত চলছে। স্থানীয় ছেলেমেয়েদের কথা শুনে আমার মনে হয়েছে, জাকিরের চলাফেরার খবর জেনেশুনেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।’

তার কথায়, ‘এটা জাকিরকে হত্যা করার জন্য সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।’ ঘটনায় গুরুতর আহতদের এককালীন পাঁচ লাখ টাকা এবং তুলনায় কম আহতদের এককালীন এক লাখ টাকা সাহায্য দেয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পাশাপাশি মমতা বলেছেন, ওই ঘটনার দায় এবং দায়িত্ব রেলকে নিতে হবে। তার কথায়, ‘ঘটনাটা ঘটেছে রেলের জায়গায়। অথচ রেল গোটা বিষয়টাকে খুব হাল্কাভাবে দেখছে। ঘটনাটা যখন ঘটে, তখন স্টেশন চত্বরের ওই এলাকা পুরোপুরি অন্ধকার ছিল। কাছাকাছি কোনো রেলপুলিশও ছিল না। রেল এভাবে তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না।’

উল্লেখ্য, রেল ইতোমধ্যেই ওই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে। রেলের দাবি, তদন্তও শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার অবশ্য ইতোমধ্যেই রাজ্যে গোয়েন্দা দফতরের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে। তারা তদন্তও শুরু করে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাকিরকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিম, তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ও ফুরফুর শরিফের পিরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি।

মুখ্যমন্ত্রীর আরো বক্তব্য, ‘এ ধরনের ঘটনা রেলের জায়গায় হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র এ নিয়ে কোনো কথা বলেনি। ওরা এভাবে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না।’ মমতার কথায়, ‘জাকির একজন জনপ্রিয় নেতা। তাকে যদি এভাবে আক্রমণ করা হয়, যদি এর সাথে কোনো রাজনৈতিক যোগও থাকে, তবে সেটা কোনো রাজনীতি নয়। সেটাকে রাজনীতি বলা যায় না। তৃণমূল নেতাদের বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে। এটা একটা বড় ষড়যন্ত্র।’
সূত্র : আনন্দবাজার