মানুষের না খেয়ে থাকলে আনন্দ পান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

44

আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে নাটক মঞ্চায়ন করে থাকেন। করোনা নিয়েতো এই দুই বছর ধরে যেন স্ক্রিপ্ট বার বার মিসিং হয়ে যাচ্ছে। যার কারনে জনমনে যেমন হাস্যরস দিয়েছেন তেমনি সমালোচিতও হয়েছেন।কথিত লকডাউনের নামে আবারও নাটক শুরু করেছেন। প্রথমে বলা হয়েছে করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য সারাদেশে ১৪ দিনের শাটডাউন ঘোষণা করা হবে। এসব সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পরই বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেয়া দেয়। আর দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় দিনমজুর তথা দিন এনে দিন খায় এমন মানুষ। এরপর শুক্রবার আবার জানাল-শাটডাউন নয়, সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে কঠোর লকডাউন থাকবে।

কিন্তু শনিবার রাতে আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন আবার জানাল-সোমবার থেকে সীমিত আকারে আর বৃহস্পতিবার থেকে হবে সর্বাত্মক লকডাউন।
করোনা, লকডাউন ও টিকা আনা নিয়ে গতবছর থেকেই সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা চলে আসছে। এক দপ্তরের একক সিদ্ধান্তের কারণেই মূলত পরিস্থিতি এত খারাপ হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই। কিন্তু শাটডাউন-লকডাউন নিয়ে গত তিন দিন ধরে সরকার যা করছে তাতেই প্রমাণিত হচ্ছে যে সরকারের ভেতর কোনো সমন্বয় নেই। সরকারের ভেতর যে কি পরিমাণ হযবরল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত তিন দিন থাকবে সীমিত লকডাউন। এ সময়ে কিছু অফিস আদালত খোলা থাকবে। কিছু দোকান-পাট, হোটেল রেস্তোরাও খোলা থাকবে। কিন্তু বন্ধ থাকবে গণপরিবহন।

কিন্তু প্রশ্ন হল-তিন দিন যদি সরকারি বেসরকারি কিছু অফিস খোলা থাকে তাহলে এসব অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আসা-যাওয়া করতে হবে। তাদেরকে অফিসে যেতে হবে। গণপরিবহন বন্ধ থাকলে লোকগুলো অফিসে যাতায়াত করবে কিভাবে? তাদেরকে বেছে নিতে হবে সিএনজি কিংবা রিকশা। কিন্তু সবার পক্ষে তো আর সিএনজি-রিকশা করে অফিসে যাওয়া সম্ভব নয়। তাদেরকে হেটেই অফিসে যেতে হবে।এর আগেও সরকার সবকিছু খুলে দিয়ে বন্ধ রাখছিল গণপরিবহন। দেখা গেছে, যানবাহন না থাকার কারণে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। চাকরি বাচানোর জন্য মানুষ বাধ্য হয়েই পায়ে হেটে অফিস করেছে। যাদের সামর্থ্য আছে তারা সিএনজি কিংবা রিকশায় যাতায়াত করেছে।

সীমিত লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকলে আগের মতোই মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হবে। করোনার এই কঠিন সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে যাতায়াত করাও মানুষের জন্য কঠিন হবে। কিন্তু আমাদের মানবতার আম্মু কখনো সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখতে পাননা। তিনি তার মতো করে লকডাউন আরোপ করছেন আবার তার মতো করে বন্ধ করছেন। সাধারণ মানুষের কষ্ট দেখলে তিনি আনন্দ পান।