শহীদ মিনারে কোরআন খতম

76

ঝালকাঠির রাজা’পুর উপজে’লার নারিকেল বাড়িয়া গ্রামে মাটিতে কলাগাছ পুঁতে তৈরি করা হয় শহীদ মিনার। সেখানে রাত ১২টা ১মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন স্থানীয় যুবকরা। পরে রোববার ফজর নামাজ শেষে স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সেখানে কোরআন খতম করেন।

ওই মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ মো. ফুয়াদ হোসেন মাদ্রাসার ৩৫জন জন শিক্ষার্থী নিয়ে সেখানে হাজির হন। তারা সবাই জুতা খুলে প্রবেশ করে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে যান শহীদ মিনারের ৩ দিকে। ৩০ পারা কোরআন ভাগ করে ৩০ জনের হাতে দেয়া হয়। ৩০মিনিটের মধ্যে তাদের পুরো কোরআন পড়া শেষ হয়।

এরপর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাদের মাগফিরাত কা’মনায় দোয়া করা হয়। এলাকার ধ’র্মপ্রা’ণ মু’সল্লিরা ওই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
পরে আয়োজক সংগঠনটির সভাপতি, সম্পাদক, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ যুবকরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শহীদ মিনারের পাশে ইংরেজি নামফলক, ক্ষুব্ধ ভাষাসৈনিকরা
লালমনিরহাটের আদিতমা’রী উপজে’লা পরিষদ চত্বরে নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। এর পাশেই ইংরেজি বর্ণ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে ‘আদিতমা’রী’ নাম ফলক। এতে ক্ষুব্ধ ভাষাসৈনিক, ভাষা প্রে’মীসহ গোটা জে’লাবাসী। শহীদদের সম্মানার্থে দ্রুত ইংরেজি বর্ণ অ’পসারণ করে ফলকটিতে বাংলা বর্ণ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে উপজে’লা প্রশাসনের দাবি, সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যই শহীদ মিনারের পাশে ইংরেজি অক্ষরে নাম ফলক নির্মাণ করা হয়েছে। এতে দোষের কিছু নেই।রাষ্ট্রীয় অর্থে ওই উপজে’লা পরিষদ চত্বরে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার। আর ওই শহীদ মিনারের সামনেই ইংরেজি মোটা অক্ষরে তৈরি করা হয় নাম ফলক। এমন কাজে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা নিয়ে।

লালমনিরহাটের ভাষাসৈনিক আব্দুল কাদের ভাসানী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে বাংলা ভাষার জন্য ল’ড়াই করেছি, আ’ন্দোলন করেছি, যে ভাষার জন্য কতজন বুকের তা’জা র’ক্ত মাটিতে ঠেলে দিয়েছেন, আজ সেই ভাষাকে অম’র্যাদা করা হচ্ছে। বাংলা ভাষার জন্য যারা প্রা’ণ দিয়েছেন তাদের স্ম’রণেই নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। আর সেই শহীদ মিনারের সামনে ইংরেজি বর্ণমালা থাকা বাংলা ভাষাকে অ’পমান এবং অম’র্যাদা করা।

তিনি দ্রুত ইংরেজি বর্ণমালা অ’পসারণ এবং বাংলা ভাষার অম’র্যাদাকারীদের বি’রু’দ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।ভাষাসৈনিক জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, উপজে’লা প্রশাসনের এই নির্বুদ্ধিতা মেনে নেয়ার মতো নয়। কতো শহীদের র’ক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই বাংলা ভাষা। র’ক্তে ঝড়া মায়ের ভাষাকে উপজে’লা প্রশাসনের ক’র্তা ব্যক্তিরা কখনোই অ’পমান করতে পারে না।

তিনি দ্রুত ইংরেজি বর্ণমালায় লেখা নাম ফলকটি অ’পসারণ করে সেখানে বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করে নাম ফলক নির্মাণের দাবি জানান।ভাষা আ’ন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরে লালমনিরহাট জে’লার একমাত্র বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ হতো না এবং বাংলা রাষ্ট্র ভাষাও হতো না।

তিনি বলেন, ভাষার ম’র্যাদা রক্ষায় জীবন দান ও বাংলা ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নজির বিশ্বে আর নাই। তিনি এই ভাষার মাসেই দ্রুত ইংরেজি বর্ণমালা অ’পসারণের দাবি জানান।

আদিতমা’রী উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা মনছুর উদ্দিন বলেন, যৌথ পরিকল্পনায় ও সবার সঙ্গে সঙ্গে আলোচনা করেই তৈরি করা হয়েছে ওই নাম ফলক। উপজে’লা পরিষদের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্যই শহীদ মিনারের পাশে ইংরেজি অক্ষরে উপজে’লার নাম ফলকটি নির্মাণ করা হয়েছে।তিনি বিষয়টি দোষের কিছু নয় বলেও দাবি করেন।