আ.লীগ মুক্তিযুদ্ধের ‘ফেরিওয়ালা’ সেজেছে: আলাল

117

আওয়ামী লীগ শরনার্থী মুক্তিযোদ্ধার দল মন্তব্য করে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘এরা সাজিতে করে মুক্তিযুদ্ধের ফেরিওয়ালা সেজেছে।’

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, ‘বীর উত্তম খেতাব নিয়ে আপনারা কি করবেন? আপনারা তো মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে বলতে অজ্ঞান হয়ে যান। আমরা অনেক সময় শুনি না বাসায় বসে? হকাররা বাসার নিচ দিয়ে সাজিতে করে মাছ এবং সবজি নিয়ে বলে এই মাছ আছে সবজি আছে সরকারের অবস্থা হয়েছে তেমন, এরা সাজিতে করে মুক্তিযুদ্ধের ফেরিওয়ালা সেজেছে। সব সময় বলে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।’

শুক্রবার (১৯ ফেব্রয়ারি) ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে তাঁতী দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলাল বলেন, ‘এই চেতনা বিএনপি বিশ্বাস করে না। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি না বিএনপি বিপক্ষের শক্তিও না, বিএনপি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের শক্তি। যারা গ্যালারিতে বসে খেলা দেখে তারপর পক্ষে বিপক্ষে হাত দেয় আওয়ামী লীগ হলো তাই। আওয়ামী লীগ হলো শরনার্থী মুক্তিযোদ্ধা। মরহুম শেখ মুজিবের মধ্যে পারলে একটা মুক্তিযোদ্ধা দেখান যার নামের পাশে বীর উত্তম বীর প্রতীক কিংবা বীর বিক্রম খেতাব আছে। চ্যালেঞ্জ করলাম এখানে। তার পরিবারে কেউ নাই যে কারণে তারা আজকে প্রতিহিংসায় ভুগছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের অবদান মানুষের হৃদয়ের মধ্যে তার পক্ষে কোনও যুক্তি দেখানো লাগে না। আদালতে যুক্তি দেখায় আসামিপক্ষ যে আমরা অপরাধ করি নাই, আমরা কেন বলব জিয়াউর রহমান এই করেছেন সেই করেছেন, ইতিহাসই বলে দেয় তিনি কি করেছেন। বর্তমান যে ইতিহাস রচিত হচ্ছে এই ইতিহাস ইতিহাস নয়, আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনও ইতিহাস নয়। এটা হচ্ছে ফরমায়েশী ইতিহাস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র যেটা সরকার প্রকাশ করেছে, সেইটার দশম খণ্ডের পাঁচশত তিন পৃষ্ঠা থেকে পাঁচশত আট চল্লিশ পৃষ্ঠা পর্যন্ত টানা জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা লেখা রয়েছে। আমরা কেন ইতিহাস বলতে যাব ইতিহাস বলবে।’

ক্ষমতাসীনদের তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আপনারা তো মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ বলে চিৎকার করেন, তাহলে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় বেগম খালেদা জিয়ার করতে হলো কেন? আপনারা তো করতে পারলেন না? বেগম খালেদা জিয়া করেছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়। আর আপনারা একটা বাজে লোককে, নীতিহীন লোককে, গর্হিত অপরাধী একজন লোককে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। ওই লোক বসে বসে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা প্রকাশ করে রাজাকারের তালিকায় দিয়েছে এই আকাম মোজাম্মেল হক।’

যুবদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আজকে যত ভালো অবস্থাতেই থাকুক, যতই বড় বড় কথা বলুক, যত অত্যাচার-নিপীড়ন আমাদেরকে করুক একটা কথা মনে রাখবেন, সকল বিজয় সব সময় গৌরবের না আর সকল পরাজয়ও সব সময় লজ্জ্বার না। যদি তাই হতো তাহলে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা স্বাধীনতার জন্য নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশীর প্রান্তরে যে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন, সেই যুদ্ধে বিজয়ী মীরজাফরকে এই আড়াইশো বছর পরেও মানুষ গালি দেয়। কিন্তু পরাজিত সিরাজউদ্দৌলাকে এখনও মানুষ সালাম দেয়। আমরা তো সেই রক্তের উত্তরাধিকার। মীরজাফরের রক্তের উত্তরাধিকার হচ্ছে যারা এখন দেশ শাসন করছে জোর করে তারা।’

টিকা নিয়েও আওয়ামী লীগ রাজনীতি করছে মন্তব্য করে আলাল আরও বলেন, ‘এক জন টিকা দেয় দুইশ জন পাশে দাঁড়িয়ে থাকে ছবি তোলার জন্য। এমনভাবে টিকা দেয় মনে হয় যেন কোরবানির গরু চেপে ধরেছে ওটাকে জবাই করা হচ্ছে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফৎ আলী সপু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, আব্দুর রহিম, ড.কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।