সমিতির নাম ভাঙিয়ে ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ

130

সমবায় সমিতির নাম ভাঙিয়ে লোভনীয় অফার দিয়ে গ্রামের সহজ সরল নারীদের কাছ থেকে ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৩।

গ্রেফতার মামুন হাসান মালিক ওরফে আদম সুফী (৪৫) নীলফামারীর ডোমারে সাহাপাড়ায় ভোগ্যপণ্য সমবায় সমিতি নামে একটি পরিচালনা করতেন। সেই সমিতির ব্যানারে এলাকার সহজ-সরল নারীদের সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে লোভনীয় অফার দিয়ে তাদের কাছ থেকে দুই মাসে ছয় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর ওই টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে যায় প্রতারক আদম সুফী। বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকায় তার নিকট এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র‍্যাব-১৩ রংপুর সদর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান।

র‍্যাব-১৩ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জানান, গত বছরের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে মামুন হাসান মালিক ওরফে আদম সুফী সহযোগীদের নিয়ে ডোমার থানার সাহাপাড়ায় প্রাক্তন কুইন্স কিন্ডার গার্ডেনে ঘর ভাড়া নিয়ে ডোমার বাজার ভোগ্য পণ্য সমবায় সমিতি নামক ব্যানার লাগিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। সেখানে এলাকার সহজ-সরল নারীদের টার্গেট করে সমবায় সমিতির মাধ্যমে লোভনীয় অফার দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া শুরু করে প্রতারক চক্রটি।

সমবায় সমিতির মাধ্যমে কয়েকজন নারী সদস্য প্রাথমিকভাবে তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মূল টাকাসহ লভ্যাংশ প্রাপ্ত হলে এলাকার অধিক সংখ্যক মহিলা নিজের সহায় সম্বল বিক্রি করে চটকদার এই সমিতির সদস্য হন। এভাবে সমবায় সমিতির আড়ালে এই প্রতারক চক্রটি মাত্র দুই মাসে ৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করেন। পরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সমিতির কার্যালয় বন্ধ করে পালিয়ে যায় আদম সুফী ও তার সহযোগীরা।

আকস্মিক ভাবে এমন ঘটনা ঘটায় ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন ভাবে সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকেন। কয়েকজন নারী তাদের স্বামীর সংসার থেকে তালাকপ্রাপ্ত হন। একই ঘটনায় ওই সমিতির এক নারী সদস্য হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারাও যান।

মেজর মঈন হাসান আরও বলেন, টাকা দিয়ে সর্বশান্ত সহস্রাধিক নারী এবং ওই সমিতির প্রায় শতাধিক নারীকর্মী গত বছরের ২০ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এছাড়াও নীলফামারী জেলার ডোমার থানায় চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি চারজন প্রতারকের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। একই সঙ্গে র‍্যাব-১৩ বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‍্যাব বিষয়টি অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা করে প্রতারণা চক্রের মূল হোতা মামুন হাসান মালিক ওরফে আদম সুফীকে ঢাকার সাভারের নিকট আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আদম সুফী প্রতারণার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার সাথে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান র‍্যাবের ওই কর্মকর্তা।